বিষয়বস্তুতে যান

ভূমিকা

জাভেদ আহমেদ গামিদি বাংলা

স্বীয় বিষয়বস্তুর আলোকে কুরআন সম্পর্কে বলা যায় — এটা একজন রাসুলের আপন জাতিকে হুশিয়ার করার উপাখ্যান। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যাপারে এটা তো জানা বিষয় যে, নবুয়তের পাশাপাশি তিনি রিসালাতের মর্যাদায়ও অধিষ্ঠিত ছিলেন। আল্লাহতায়ালা যেসব ব্যক্তিকে মানুষের হেদায়েতের জন্য প্রেরণ করেন এবং নিজের তরফ থেকে ওহি ও ইলহামের মাধ্যমে যাদেরকে তিনি দিক-নির্দেশনা দান করেন — তারাই নবী। কিন্তু প্রত্যেক নবীর বেলায় এটা আবশ্যক নয় যে, তিনি রাসুল হবেন। রিসালাত বিশেষ এক মর্যাদা, যা অল্প সংখ্যক নবী হাসিল করেছিলেন। কুরআনের বিবরণ মোতাবেক — রাসুল নিজ আহ্বানকৃত জনপদের জন্য খোদা তায়ালার আদালত হয়ে আসেন এবং ঐ আহ্বান শুনতে পাওয়া সকলের বিচার-ফয়সালা করে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। কুরআনে বলা হয়েছে: রাসুলগণের দাওয়াতে [শ্রোতাদের ভাগ্য-নির্ধারণী] এই ফয়সালা ইনযার [হুশিয়ারি], ইনযারে আম [সাধারণ হুশিয়ারি], ইতমামে হুজ্জাত [সত্যকে সুস্পষ্ট করে চূড়ান্ত প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করা], হিজরত [দেশত্যাগ] ও বারাআত [সম্পর্কচ্ছেদ] — এই ধাপগুলো অতিক্রম করে প্রকাশ পায় এবং ঐ ফয়সালা এমনভাবে প্রকাশ পায় যেন জমিনের বুকে বসেছে আসমানি আদালত। [মনে হবে] খোদায়ি আযাব ও পুরস্কারের ফয়সালা প্রদানের এক আসর এটা; আর ওদিকে রাসুলের ফরমান শুনতে পাওয়াদের ভাগ্যে নেমেছে ছোটখাটো একটি কিয়ামত। এই দাওয়াতের যে ইতিহাস কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, তা থেকে জানা যায় যে, এক্ষেত্রে কেবল দুটো প্রেক্ষাপট সামনে আসতে পারে:

প্রথমটি হচ্ছে — নবীর সাথিদের সংখ্যা কম এবং তাদের পক্ষে হিজরত করাটাও সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে — নবীর সাথিদের সংখ্যা পর্যাপ্ত এবং তিনি তার সাথিদের নিয়ে হিজরতে বেরিয়ে পড়েন, আর এই হিজরতের পূর্বেই আল্লাহতায়ালা কোনো একটি ভূখণ্ডে তাদের জন্য স্বাধীনভাবে বসবাস এবং সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি চর্চার বন্দোবস্ত করে দেন।

উভয় প্রেক্ষাপটে রাসুলদের সাথে সম্পর্কিত খোদার ঐ সুন্নাত আবশ্যিকভাবে কার্যকর হয়, যা কুরআনে এভাবে বর্ণিত হয়েছে:

প্রথম অবস্থায় রাসুল তার জাতিকে ছেড়ে চলে যান — এটা সাধারণত রাসুলের মৃত্যু বা তার হিজরতের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। [রাসুল তার জাতিকে ছেড়ে যাওয়ার পর] এই ফয়সালা এমনভাবে শোনানো হয় যেন আসমান থেকে এক ঝাঁক সেনা নেমেছে। লণ্ডভণ্ডকারী তুফান বয়ে চলে এবং মেঘ ও বাতাসের বাহিনী ঐ জাতির উপর এমন হামলা চালায় যে, রাসুলের বিরোধীতাকারীদের কেউই জমিনে অবশিষ্ট থাকে না। যাদের সাথে এমনটি ঘটে, তাদের জন্য কুরআন ‘মুশরিক (مُشْرِکِیْن)’ শব্দটি পরিভাষা হিসেবে ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে যারা প্রকৃতপক্ষে তাওহীদের সাথে সম্পর্ক রাখে, তাদের বেলায় এমনটি ঘটে না। তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে, সমূলে বিনাশের পরিবর্তে তাদের উপর অপমান ও গোলামীর শাস্তি চাপিয়ে দেয়া হয়। বনি ইসরাইল জাতির সাথে এমনটিই ঘটেছে, এটা আমরা এখান থেকে বুঝতে পারি। অন্যদিকে নুহ, হুদ, সালিহ, লুত, শুআইব নবীদের জাতি এবং এমন অন্যান্য জাতির সাথে এরূপ আচরণ করা হয়নি, বরং তাদেরকে একেবারে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়।

দ্বিতীয় পরিস্থিতিতেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। তবে এক্ষেত্রে আযাবের ফয়সালা রাসুল ও তার সাথিদের তরবারির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। এই পরিস্থিতিতে ঐ জাতি কিছুটা অবকাশ লাভ করে। রাসুল এই সময়ে তার হিজরত করা ভূমিতে সেখানকার শ্রোতাদের উপর ইতমামে হুজ্জাত [তথা সত্যকে সুস্পষ্ট করে চূড়ান্ত প্রমাণ প্রতিষ্ঠার কাজটি] পূর্ণ করতে থাকেন, তার উপর ঈমান আনা লোকদের শিক্ষা দিতে থাকেন এবং নৈতিক ও আত্মিক পরিশুদ্ধির মাধ্যমে তাদেরকে সত্য ও মিথ্যার মাঝে চলমান যুদ্ধের জন্য সংঘবদ্ধ [শক্তি হিসেবে] গড়ে তোলেন। পাশাপাশি হিজরত করা ভূমিতে নিজেদের ক্ষমতাকে এমনভাবে সুসংহত করেন যে, সেখানকার লোকদের সাহায্যে তিনি সত্য অস্বীকারকারী জাতিকে সমূলে বিনাশ করেন এবং সত্যের অনুসারীদের জন্য বিজয় ও সমৃদ্ধির সূচনা ঘটান।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ক্ষেত্রে এই দ্বিতীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে, নবীর পক্ষ থেকে হওয়া ইনযার [হুশিয়ারি], ইনযারে আম [সাধারণ হুশিয়ারি], ইতমামে হুজ্জাত [সত্যকে সুস্পষ্ট করে চূড়ান্ত প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করা], হিজরত [দেশত্যাগ], বারাআত [সম্পর্কচ্ছেদ] এবং তার শত্রু ও মিত্রদের শাস্তি ও পুরস্কারের দিনলিপি বর্ণনাই কুরআনের বিষয়বস্তু। কুরআনের প্রতিটি সুরা এই প্রেক্ষাপটের আলোকে নাযিল হয়েছে এবং কুরআনের সবগুলো অধ্যায়কে এই সূত্র মোতাবেক বিন্যাস করা হয়েছে।

সংক্ষেপে এ ধরনের বিন্যাসের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে: কুরআনের প্রতিটি সুরা একে অপরের সাথে জোড়বদ্ধ এবং সুরাগুলোকে সাতটি [বৃহৎ] অধ্যায়ে বিভক্ত করে সাজানো হয়েছে। অর্থাৎ বিষয়বস্তুর আলোকে প্রতিটি সুরা নিজের একটি জোড় বা প্রতিলিপি রাখে। স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে যে ধরনের বন্ধন থাকে, ঐ দুটো সুরার মধ্যে ঠিক তেমন বন্ধন বিদ্যমান। কিছু সুরা এর ব্যতিক্রম, যেমন: সুরা ফাতিহা — যা পুরো কুরআনের একটি ভূমিকা। অবশিষ্ট ব্যতিক্রমী সুরাগুলো হয় সম্পূরক বা উপসংহার, নয়তো অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি সূচক। অতঃপর [জোড়বদ্ধ ও কিছু ব্যতিক্রমী] সুরাগুলোর সমন্বয়ে গড়ে উঠা সাতটি [বৃহৎ] শ্রেণিতে কুরআনের সুরাগুলোকে সাজানো হয়েছে, যেখানে এই সাতটি [বৃহৎ] শ্রেণিকে আমরা অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছি। কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট এই বাস্তবতাকে সুরা হিজরে এভাবে তুলে ধরা হয়েছে:

কুরআনের এই সাত অধ্যায়ের প্রতিটি অধ্যায় এক বা একাধিক মাক্কি সুরা দিয়ে শুরু হয় এবং শেষ হয় এক বা একাধিক মাদানি সুরা দিয়ে।

প্রথম অধ্যায় ফাতিহা দিয়ে শুরু হয়েছে এবং মায়েদাতে গিয়ে শেষ হয়েছে। এই অধ্যায়ে ফাতিহা মাক্কি এবং অবশিষ্ট চারটি সুরা মাদানি।

দ্বিতীয় অধ্যায় দুটো মাক্কি সুরা আনআম ও আরাফ দিয়ে শুরু হয়েছে এবং শেষ হয়েছে দুটো মাদানি সুরা আনফাল ও তওবা দিয়ে।

তৃতীয় অধ্যায় ইউনুস থেকে মুমিনুন পর্যন্ত প্রথম ১৪-টি মাক্কি সুরা দিয়ে শুরু হয়েছে এবং একটি মাদানি সুরা নুর দিয়ে শেষ হয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায় ফুরকান থেকে শুরু হয়ে আহযাবে গিয়ে শেষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ৮-টি সুরা মাক্কি এবং সর্বশেষ একটি সুরা অর্থাৎ আহযাব মাদানি।

পঞ্চম অধ্যায় সাবা থেকে আরম্ভ হয়ে হুজুরাতে গিয়ে সমাপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩-টি সুরা মাক্কি এবং শেষ দিকের ৩-টি সুরা মাদানি।

ষষ্ঠ অধ্যায় কাফ থেকে শুরু হয়ে তাহরিমে গিয়ে শেষ হয়েছে। এই অধ্যায়ে ৭-টি সুরা মাক্কি এবং অবশিষ্ট ১০-টি সুরা মাদানি।

সপ্তম অধ্যায়ের সূচনা মুলক দিয়ে এবং সমাপ্তি নাস দিয়ে। এর মধ্যে শেষ দুটো সুরা অর্থাৎ মুআওবিযাতাইন [নামে পরিচিত ফালাক ও নাস] মাদানি এবং অবশিষ্ট সবগুলো সুরা মাক্কি।

এছাড়া, প্রতিটি অধ্যায়ের একটি কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু থাকে এবং সে অধ্যায়ের সুরাগুলো ঐ বিষয়বস্তুর আলোকে সাজানো।

প্রথম অধ্যায়ের কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু: ইহুদি ও খ্রিস্টানদের নিকট সত্যকে সুস্পষ্ট করে চূড়ান্ত প্রমাণ প্রতিষ্ঠা তথা ইতমামে হুজ্জাত সম্পন্ন করা এবং এই দুটো উম্মতের জায়গায় বনি ইসমাইল হতে নতুন উম্মতের ভিত প্রতিষ্ঠা। নতুন উম্মতের পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধি এবং এই উম্মতের সাথে সম্পন্ন হওয়া খোদা তায়ালার শেষ চুক্তিনামার বিবরণ তুলে ধরা।

দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিষয়বস্তু: আরবের মুশরিকদের নিকট সত্যকে সুস্পষ্ট করে চূড়ান্ত প্রমাণ প্রতিষ্ঠা তথা ইতমামে হুজ্জাত সম্পন্ন করা, মুসলিমদের পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধির [সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়] এবং দুনিয়ার বুকে শেষবারের মতো হওয়া খোদায়ি আদালতের বিবরণ।

তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ অধ্যায়ের বিষয়বস্তু একই এবং তা হচ্ছে: হুশিয়ারি বা সাবধানী বার্তা দেয়া এবং পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধির [সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি] তুলে ধরা।

সপ্তম ও শেষ অধ্যায়ের বিষয়বস্তু: কুরাইশ নেতাদেরকে কিয়ামতের হুশিয়ারি শোনানো, তাদের উপর ইতমামে হুজ্জাত সম্পন্ন করা এবং ইতমামে হুজ্জাতের ফলস্বরূপ তাদেরকে আযাবের ধমক দেয়া এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য গোটা আরব ভূখণ্ডে সত্যের বিজয় লাভের সুসংবাদ প্রদান। এই অধ্যায়কে আমরা সংক্ষিপ্তভাবে হুশিয়ারি ও সুসংবাদ প্রদানের অধ্যায়ও বলতে পারি।

সাতটি অধ্যায় থেকে প্রথম অধ্যায়কে আলাদা করলে কুরআনের বিন্যাস-ধারা হবে শেষ থেকে শুরুর দিকে। সপ্তম অধ্যায়টি এজন্যই হুশিয়ারি ও সুসংবাদ প্রদানের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করেছে। অতঃপর, ষষ্ঠ, পঞ্চম, চতুর্থ ও তৃতীয় অধ্যায়ে হুশিয়ারি ও সুসংবাদ দেয়ার পাশাপাশি সেখানে পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধির ন্যায় বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সবশেষে আসে দ্বিতীয় অধ্যায়, যা [সপ্তম থেকে দ্বিতীয় অধ্যায় পর্যন্ত] চলমান বিন্যাসের সর্বশেষ নমুনা এবং এই অধ্যায়ে এসেই নবীর প্রচারিত হুশিয়ারি তার চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। ঠিক এ কারণেই এই অধ্যায়ে ইতমামে হুজ্জাত, [মুসলিমদের] পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধি সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি আলোচনার সাথে সাথে [কুরআন তার নিজ] শ্রোতাদের জন্য আসমানি আদালত থেকে জারিকৃত ফয়সালার বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে — যেটাকে আমরা কিয়ামতের পূর্বে আযাব ও পুরস্কার প্রদানের সর্বশেষ খোদায়ি মঞ্চ হিসেবে আখ্যায়িত করি।

এই দিক থেকে প্রথম অধ্যায়টি সম্পূর্ণ আলাদা এবং এখানে শ্রোতা হিসেবে আরবের মুশরিকদের পরিবর্তে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কিন্তু কুরআনের শুরু থেকে খেয়াল করলে দেখা যাবে, ইতমামে হুজ্জাত, [মুসলিমদের] পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধি সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি আলোচনার পর খোদায়ি আদালত বসার বিষয়টি যেভাবে সুরা তওবাতে সংযোজিত হয়েছে, এই অধ্যায়টিতেও ঠিক তাই হয়েছে। যেভাবে উপরের অধ্যায়গুলো শেষ থেকে শুরুর দিকে অগ্রসর হয়ে ঊর্ধ্বক্রম অনুসারে সজ্জিত হয়েছে, [ঠিক তেমনি এই অধ্যায়ের বিষয়বস্তু উপর থেকে নিচের দিকে অগ্রসর হয়ে ঊর্ধ্বক্রম বজায় রেখে সজ্জিত হয়েছে]। বস্তুত, দ্বিতীয় অধ্যায়টি [পাহাড়ের] শীর্ষবিন্দু বা চূড়ার ন্যায়, যেখানে উভয় দিক থেকে একই ধরনের বিষয়বস্তু সামনে এগুতে থাকে এবং এভাবে তারা নিজেদের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠিয়ে স্থির হয়, তবে পার্থক্য হচ্ছে: উভয়ক্ষেত্রে শ্রোতামণ্ডলী ভিন্ন-ভিন্ন।

এখান থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে অগ্রগামী অধ্যায়গুলোকে নিম্নক্রম অনুসারে সাজানো হয়েছে, যেন এই বিন্যাসটি প্রথম অধ্যায়ের সাথে আবশ্যক সামঞ্জস্য বজায় রাখে।

প্রথম অধ্যায়কে সবার আগে এজন্য স্থান দেয়া হয়েছে যে, কুরআনের বাহকগণই [এখন] এর প্রধান শ্রোতা। প্রথম অধ্যায় বাদ দিলে, [প্রতিটি অধ্যায়ের] মাক্কি সুরাগুলোতে সাধারণভাবে হুশিয়ারি বার্তা, সুসংবাদ প্রদান ও ইতমামে হুজ্জাতের বিষয় আলোচিত হয়েছে, অন্যদিকে মাদানি সুরাগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে [মুসলিমদের] পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধি সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি। এছাড়া প্রতিটি অধ্যায়ে মাক্কি ও মাদানি সুরাগুলো এমন নিখুঁত উপায়ে নিজেদের মধ্যে ভারসাম্য ও সংহতি বজায় রেখেছে, যা দেখলে মনে হবে গাছের মূল থেকে কাণ্ড বের হচ্ছে এবং কাণ্ড থেকে শাখা ফুটছে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দুনিয়াতে প্রেরণের ফলস্বরূপ আরব ভূখণ্ডে খোদার যে আদালত বসেছিল, তার বিবরণ এমন চৎমকার ও নান্দনিক বিন্যাসের সাথে এই গ্রন্থে চিরকালের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই দিক থেকে দেখলে, ধর্ম যে মৌলিক প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে, সেটাকে কুরআন চূড়ান্তরূপে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছে [এবং চোখে আঙ্গুল দিয়ে আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছে যে], খোদার আদালত একদিন পুরো দুনিয়ার জন্য ঠিক এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হবে।

[চলবে]