مواد پر جائیں

باب 16: ৯. রসম-রেওয়াজ ও আদব-কায়দা

মানুষের আত্মশুদ্ধি জীবনযাপনের যেসব পদ্ধতি এবং সভ্যতার যেসব নিদর্শনের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, পারিভাষিকভাবে সেগুলোকে আমরা রসম-রেওয়াজ ও আদব-কায়দা বলি। মানব সমাজের কোনো যুগই এই রসম-রেওয়াজ ও আদব-কায়দা থেকে খালি ছিল না। আমরা এগুলোকে প্রতিটি গোত্রে, প্রতিটি জাতিতে এবং প্রতিটি সভ্যতায় একইভাবে প্রচলিত একটি সাধারণ নিয়ম হিসেবে দেখে আসছি। বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর পরিচয় একে অপরের তুলনায় প্রধানত এগুলোর মাধ্যমেই গড়ে ওঠে। নবী (আলাইহিমুস সালাম)-গণ যে ধর্ম নিয়ে এসেছেন, সেটা-ও নিজের অনুসারীদেরকে কিছু রসম-রেওয়াজ ও আদব-কায়দা মেনে চলতে নির্দেশ দেয়। ধর্মের উদ্দেশ্য আত্মশুদ্ধি, অতএব ধর্মের এই রসম-রেওয়াজ ও আদব-কায়দাগুলোও এই উদ্দেশ্য সামনে রেখেই নির্ধারিত হয়েছে। এই রসম-রেওয়াজ ও আদব-কায়দাগুলো নিম্নরূপ:

১. আল্লাহর নাম নিয়ে এবং ডান হাত দিয়ে পানাহার করা। এগুলোর মধ্যে প্রথম বিষয়টি আল্লাহতায়ালার নিয়ামতসমূহের স্বীকৃতি ও স্বীকারোক্তি এবং সেগুলোতে বরকতের দোয়ার জন্য; আর দ্বিতীয়টি এই সত্যকে সবসময় স্মরণের জন্য যে, জান্নাতের নিয়ামত কিয়ামতের দিন যারাই লাভ করবে, তাদেরকে আমলনামা তাদের ডান হাতে দেওয়া হবে।

২. সাক্ষাতের সময় اَلسّلامُ عَلَيْكُم (আস-সালামু আলাইকুম) এবং তার জবাব দেয়া।

৩. হাঁচি দেয়ার পর اَلْحَمْدُ لِلّٰه (আল-হামদুলিল্লাহ) বলা এবং তার জবাবে یَرْحَمُکَ اللّٰه (ইয়ারহামু-কাল্লাহু) বলা।

৪. গোঁফ বা মোচ ছোট রাখা।

৫. নাভীর নিচের পশম কাটা।

৬. বগলের পশম পরিষ্কার করা।

৭. বড় হয়ে যাওয়া নখ কাটা।

৮. পুরুষদের খতনা করা।

৯. নাক, মুখ এবং দাঁতের পরিচ্ছন্নতা।

১০. ইসতিনজা [প্রসাব ও পায়খানার পর পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা]।

১১. হায়েজ ও নেফাসের পর গোসল।

১২. জানাবাতের গোসল [বীর্যপাত ও যৌন মিলনের পর যে গোসল করা হয়]।

১৩. মৃতের গোসল, দাফন ও কাফন।

১৪. ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার উৎসব।